মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র জনরোষের মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি হোয়াইট হাউজ থেকে জাতির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণের ঠিক মুহূর্তে প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, প্রশাসনের যুদ্ধ কৌশলের ওপর জনগণের আস্থা তলানিতে ঠেকেছে। মার্কিন ভোটাররা এখন আর নতুন করে কোনো আর্থিক ব্যয় বা সামরিক সংঘাত বৃদ্ধির পক্ষে নেই।
সোমবার (৬ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জর্ডানের সংবাদমাধ্যম রোয়া নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান অভিযানের শুরুতে ৮৮ শতাংশ মানুষ যেভাবে সমর্থন দিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতি তার সম্পূর্ণ বিপরীত। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ক্লান্তি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা এখন সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের প্রধান দাবি। আইনপ্রণেতাদের মাঝেও এই যুদ্ধ নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।
জরিপের তথ্য অনুয়ায়ী, ৬৬ শতাংশ আমেরিকান বর্তমান সামরিক পদক্ষেপের প্রতি অসন্তুষ্ট। এছাড়া কঠোর বিরোধিতাকারীর সংখ্যা ১২ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ৪৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বিশ্বাস করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে এই সংকট থেকে উত্তরণের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
আর্থিক ও সামরিক বিষয়ে জনমত এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পূর্ণ বিপক্ষে। ৭১ শতাংশ নাগরিক যুদ্ধের জন্য প্রস্তাবিত ২০০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত তহবিল অনুমোদনের ঘোর বিরোধী। ৬৮ শতাংশ আমেরিকান ইরানে স্থল সৈন্য পাঠানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এমনকি রিপাবলিকান দলের ভেতরেও বিরোধ বাড়ছে। সাধারণ রিপাবলিকানদের ৫৬ শতাংশই নতুন করে সেনা পাঠানোর বিপক্ষে।
মার্কিন ভোটাররা মনে করছেন বিদেশের মাটিতে শত শত বিলিয়ন ডলার খরচ দেশের স্থানীয় অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মাত্র ২৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে, এই যুদ্ধ মার্কিন জীবন ও অর্থের বিনিময়ে সার্থক হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হোয়াইট হাউজ জনসমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করলেও প্রশাসনের লক্ষ্য এবং জনগণের চাহিদার মধ্যে এক বিশাল ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বর্তমানে কংগ্রেসের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশাল যুদ্ধকালীন বাজেট। যদি আইনসভায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পাস না হয়, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসনকে বাধ্য হয়ে তাদের মধ্যপ্রাচ্য নীতি পুনরায় মূল্যায়ন করতে হতে পারে।
ভয়েস/আআ